বৃষ্টি কেন হয় | এসিড বৃষ্টি কেন হয়

বাইরে ঝুম ঝুম বৃষ্টি পড়ছে বাড়ির পাশের মাঠে দাপাদাপি করছে কচিকাঁচারা,বাড়ির ছাদে  বৃষ্টি বিলাস করছে তরুণীরা, কেউ বা চা কিংবস কফির মগ নিয়ে বসে পড়ছে বেলকনি কিংবা জানালার ধারে। এসব দৃশ্য হরহামেশাই চোখে পড়ে এ দেশে। বৃষ্টি নিয়ে বাঙালির আয়োজনের শেষ নেই, বৃষ্টিতে ভেজা মান এমন মানুষও দু ফোটা বৃষ্টির জল হাতে মেখে নেয় অতি উৎসাহে।বৃষ্টি নিয়ে কম কাব্য রচনাও হয়নি! বৃষ্টি এক রকম উৎসবই যেন বয়ে আনে। এই যে বৃষ্টির এতো আবেদন আমাদের জীবনে আমরা কজন জানি বৃষ্টি কেন হয়? 

বৃষ্টির কত রকমফের হয় তাও কী আমরা জানি? শিলা বৃষ্টি এসিড বৃষ্টি নাম গুলো শুনেছি হয়তো।কিন্ত এই শিলা বৃষ্টি, এসিড বৃষ্টি কেন হয় সেটা কী আমাদের জানা আছে? চলে আজ জেনে নেয়া যাক বৃষ্টি আসলে কেন হয়, এসিড বৃষ্টিই বা কেন হয়।

পোস্ট সূচিপত্রঃ বৃষ্টি কেন হয় | এসিড বৃষ্টি কেন হয়

বৃষ্টি কি | বৃষ্টি কেন হয় 

বৃষ্টি কি এবং বৃষ্টি কেন হয় সেটা জানার আগে তো বৃষ্টি জিনিসটা কী সেটা জানা দরকার! হয়তো ভাবছেন এ আবার কেমন কথা, জন্ম থেকে আকাশ থেকে পানি ঝরতে দেখছি সেটাকেই তো বৃষ্টি বলে জানি। নতুন করে বৃষ্টি কি সেটা কেন জানতে হবে, তাই তো? কিন্তু বৃষ্টি কি সেটার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানা আছে কী আমাদের?

আরও পড়ুনঃ কচু শাক এর ইংরেজি | কচু শাক খাওয়ার উপকারিতা

সূর্যের তাপে বিভিন্ন জলীয় উৎস থেকে পানির অণু বাষ্পে পরিণত হয়ে উপরে উঠতে থাকে। ভূমি থেকে যত উপরে ওঠা যায় ততই তাপমাত্রা কমতে থাকে। ফলে যতই উপরে উঠতে থাকে ততই বাষ্পগুলো ঠাণ্ডা ও ঘনীভূত হয়ে বড় বড় পানিকণায় পরিণত হয়। সেগুলো পরে পৃথিবীর অভিকর্ষের কারণে আবার নিচে ফিরে আসে। এই ঝরে পড়া পানিই আসলে বৃষ্টি।

বৃষ্টি কি তা তো জানলাম, বৃষ্টি কেনো হয় সেটা এবার জেনে নেয়া দরকার। আকাশের মন খারাপে বৃষ্টি ঝরায় এরকম অসংখ্য কাব্য করতে শুনেছি। আসলে বিষয়টার পেছনের কারণ আমরা জানার আগ্রহ কখনো করেছি কী? বৃষ্টি নিয়ে এতো আবেগ অথচ বৃষ্টি কেন হয় সেটি আমাদের জানা নেই।

সূর্যের তাপে পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে পানির অনু বাষ্পীভূত হয়ে আকাশে চলে যায় তাতো আগেই জেনেছি। যত বেশি জলীয় বাষ্প মেঘের কণাগুলিতে ঘনীভূত হয়, মেঘগুলো বড় এবং ভারী হয়।

অবশেষে, মেঘগুলো এত ভারী হয়ে যায় যে তারা আর সমস্ত পানির ফোঁটা ধরে রাখতে পারে না। পানি বৃষ্টিপাত হিসাবে পৃথিবীর পৃষ্ঠে ফিরে আসে, মূলত এই পানিচক্রের কারণে পৃথিবীতে বৃষ্টিপাত হয়। যা সূর্যের শক্তি এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলের মধ্যে পানির চলাচল দ্বারা চালিত হয়।

এই  বৃষ্টি আবার বিপানিচক্রের কারণে পৃথিবীতে বৃষ্টিপাত হয়। যা সূর্যের শক্তি এবং পৃথিবীর পৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলের মধ্যে পানির চলাচল দ্বারা চালিত হয়। এই বৃষ্টি আবার বিভিন্ন কারণে তুষার, এসিড, ঝিরিঝিরি বা শিলাবৃষ্টিতে রূপ নিতে পারে। আজ আমরা বৃষ্টির এই ধরন গুলোর মধ্যে শিলা বৃষ্টি , মাছ বৃষ্টি এবং এসিড বৃষ্টি কেন সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত জানবো।

এসিড বৃষ্টি কেন হয় 

বৃষ্টির পানির আমাদের জন্য আরামদায়ক অনুভূতি তৈরী করে। আমরা যে ধরনের বৃষ্টি দেখে অভ্যস্ত সেই বৃষ্টির পানিতে ক্ষতিকারক কিছু থাকে না বরং বিশুদ্ধ পানি হিসেবে সংগ্রহ করা হয় বৃষ্টির পানি।কিন্তু বৃষ্টি যদি হয় এসিড মিশ্রিত? এসিড বৃষ্টি বহু পরিচিত একটা টার্ম এসময়ে।

আরও পড়ুনঃ কিভাবে কোটিপতি হওয়া যায় | কোটিপতি হওয়ার ইসলামিক উপায়

১৮৫২ এসিড বৃষ্টি কথাটি প্রথম ব্যবহার করেছিলেন স্কটিশ রসায়নবিদ রবার্ট অ্যাঙ্গুস স্মিথ। তবে এসিড বৃষ্টি লক্ষনীয়ভাবে দেখা যায় ১৯৬০ এর শেষে কিংবা ১৯৭০ এর শুরুর সময়টাতে পশ্চিম ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায়। এসিড বৃষ্টি কেন হয় তখনো সে বিষয়ে বিশেষ কিছু জানা যায়নি।

এসিড বৃষ্টি মূলত এমন এক ধরনের বৃষ্টি যেখানে পানিতে pH এর পরিমাণ থাকে ৭ এর নিচে। বেশির ভাগ সময় ৫.৬ এর মধ্যে থাকে এসিড বৃষ্টির pH মান। বিভিন্ন অম্লধর্মী এসিড মিশ্রিত থাকার কারণে একে এসিড বৃষ্টি বলা হয়। এবার আসি এসিড বৃষ্টি কেন হয় সেটি নিয়ে। এসিড বৃষ্টি দুভাবে হয়ে থাকে একটি প্রাকৃতিক ভাবে অপরটি মানবসৃষ্ট।

বর্তমানে শিল্প কারখানা স্থাপন করার হার বেড়েছে ব্যাপক হারে, সেই সাথে পরিবেশ দূষণের মাত্রাও ভয়াবহ রূপে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিল্প কারখানা স্থাপনের ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং সেই সাথে অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে সাথে এসিড বৃষ্টির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যেসব এলাকায় বা অঞ্চলে শিল্প-কারখানা বেশি ও বায়ু দূষণ বেশি সেসব স্থানে এসিড বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই প্রবল। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবের ফল হিসেবে অ্যাসিড বৃষ্টিকে চিন্তা করা যায়। কেবল পৃথিবীতেই আমরা অ্যাসিড বৃষ্টি দেখি তা নয় বরং শুক্র গ্রহের মধ্যে ব্যাপক হারেই এই এসিড বৃষ্টি হওয়ার খবর জানা যায়।

সালফিউরিক অ্যাসিড প্রায় প্রতিটি শিল্প কারখানার জন্য নিত্য ব্যবহার্য  রাসায়নিক বস্তুর মধ্যে অন্যতম। বিভিন্ন কলকারখানা থেকে তাই সালফার ডাই অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়। এই সালফার ডাই অক্সাইড (SO2) গ্যাস বাতাসের অক্সিজেন দ্বারা জারিত হয় যার ফলে সালফার ট্রাই অক্সাইড (SO3) গ্যাস উৎপন্ন করে। 

আরও পড়ুনঃ সকালে ঘুম থেকে উঠে কি করা উচিত 

আবার যানবাহন থেকে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (NO2) গ্যাস নির্গত হয়। তাছাড়া মানুষের দ্বারা জ্বালানী পোড়ানো ও তাদের শ্বসন প্রক্রিয়া (শ্বাস-প্রশ্বাস) থেকে বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয়ে থাকে। ফলে অ্যাসিড বৃষ্টি সৃষ্টি হয়ে থাকে।

প্রাকৃতিক কারণের মধ্যে বজ্রপাত অন্যতম। বজ্রপাতের ফলে উচ্চ তাপমাত্রায় বাতাসে নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়। আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাতের ফলে খনিস্থ সালফার পুড়ে সালফার ডাই অক্সাইড গ্যাস (SO2) বায়ুমণ্ডলে যুক্ত হয়। এছাড়া গ্রীষ্মের শুষ্কতার জন্য দাবানলের কারণে বনাঞ্চলে অগ্ন্যুৎপাতের কারণে বিপুল পরিমাণে কার্বনডাইঅক্সাইড বায়ুমন্ডলে চলে আসে। 

এইসব গ্যাস বায়ুমন্ডলে বিরাজ করতে থাকে। এইবার যে অঞ্চলের বায়ুস্তরে এই সব গ্যাসের আধিক্য বেশি সেই এলাকায় মেঘ থেকে বৃষ্টির পানি নেমে আসার সময় বায়ুস্তর ভেদ করে নেমে আসে। তখন রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। এই সব গ্যাসের সাথে বৃষ্টির পানি মিশে তৈরি করে লঘু এসিড এবং তা নেমে আসে পৃথিবীতে বৃষ্টির মাধ্যমে।

এসিড বৃষ্টি পরিবেশের জন্য ভীষণভাবে ক্ষতিকর। এটির কারণে মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়,মাটিতে বিদ্যমান উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবন ধারণ কষ্টের হয়ে দাঁড়ায়। পুকুরের পিএইচ মান কমিয়ে দেয় যাতে করে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীদের জীবন ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। দালান কোঠার রঙ নষ্ট করে এসিড বৃষ্টি। এটি মানব শরীরের জন্যেও ক্ষতিকর,ত্বকের নানা জটিলতা তৈরী করে এই বৃষ্টি।

শিলা বৃষ্টি কেন হয় 

এসিড বৃষ্টি কেন হয় জেনেছি, শিলা বৃষ্টিও এসিড বৃষ্টির মতো বৃষ্টির একটি ধরণ। শিলা বৃষ্টির সাথে আমরা অভ্যস্ত,বছরে অন্তত একবার শিলা বৃষ্টি আমরা দেখে থাকি। শিলা বৃষ্টিও আমরা বেশ উপভোগ করি, কিন্তু জানি কি শিলা বৃষ্টি কেন হয়?

শিলা মানে তো আমরা জানিই, মূলত বৃষ্টির সাথে পাথর পতিত হয়। এখানে শিলা বলতে বরফ কে বোঝানো হয়। ঝড়ো আর সংকটপূর্ণ আবহাওয়াতে যখন শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ উপরের দিকে উঠতে থাকে, আর শীতল বায়ু নিচের দিকে নামতে থাকে তখন শিলা তৈরী হয়।

আরও পড়ুনঃ আইফেল টাওয়ার কেন বিখ্যাত

যখন সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ খুব শীতল পানির উৎস পাওয়া যায়, তখন মেঘে বরফ জমতে থাকে ঐ শীতল পানির দানা আর শীতল বায়ুর সংমিশ্রণে । উর্ধ্বমুখী বায়ু এমন একটা অবস্থানে পৌছায় যেখানে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে চলে যায়, অর্থাৎ যেখানে পানি বরফ হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ঊর্ধ্বমুখী বায়ুতে সৃষ্ট বরফ খণ্ডগুলো ঐ বায়ুর প্রবাহ থেকে ছুটে গিয়ে নিচের দিকে পড়তে থাকে।

এই ঊর্ধ্বমুখী বায়ুর উপরে উঠে যাওয়ার পরে বরফ কণা সৃষ্টি হয়ে নিম্নগামী হওয়ার প্রক্রিয়া পুনঃ পুনঃ চলতে থাকে এবং বরফ কণার উপর বার বার আস্তরণ জমা হয়ে তা বরফ খণ্ডের আকার নেয়। এই ঊর্ধ্বমুখী বাতাসের কিন্তু বেশ ভালোই গতি থাকতে হয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই গতি ৬০ মাইল/ঘন্টা ও হতে পারে।

যখন শিলা ঊর্ধ্বাকাশ থেকে পতিত হতে থাকে, তখন এটি পতনশীল অবস্থায় কিছুটা গলে যায়, আর এমন তাপমাত্রায় এটা গলে যার কারণে এটা আবার ঊর্ধ্বমুখী বায়ুর সাথে উপরে উঠে যায়।

এই শিলাখন্ড গুলো বৃষ্টির পানির কণা বা মেঘ কে আশ্রয় করে এবং যখন এগুলো ক্রমশ ভারি হয়ে উঠে এবং ঊর্ধ্বগামী বায়ু আর এতটা ভারি কণা বহন করতে পারে না,তখন শিলাখন্ড বৃষ্টির সাথে ভূমিতে পতিত হতে থাকে। যাকে আমরা শিলাবৃষ্টি হিসেবে দেখতে পাই। গড়ে একটা শিলার ব্যস হয় ৫ থেকে ১৫০ মিলিমিটার এর মধ্যে। আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন শিলা বৃষ্টি কেন হয় ।

মাছ বৃষ্টি কেন হয়

আকাশ থেকে মাছ ঝরে পরছে ঝাঁকে ঝাঁকে। এ যেনো রুপকথার কোনো গল্প। কাল্পনিক মনে হলেও এটি বাস্তবিক জীবনেই ঘটে চলেছে হন্ডুরাসের বাসিন্দাদের। আমেরিকার প্রাজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হন্ডুরাসে প্রায় ১০০ বছর ধরে হয়ে চলেছে মাছ বৃষ্টি।

হন্ডুরাসের একটি ছোট শহরের নাম ইউরো। কোন এক বছরের মে কিংবা জুন মাসে ইউরো শহরে প্রচন্ড ঝড় হয়। ঝড় থেমে যাবার পর শহরের লোকজন রাস্তায় বের হয়ে দেখতে পায় জ্বলজ্যান্ত মাছ রাস্তায় লাফালাফি করছে।

আরও পড়ুনঃ কোল্ড ড্রিংকস খেলে কি হয় । কোমল পানীয় এর ক্ষতিকর দিক

আজব এই মাছের বৃষ্টি দেখে শুরুর দিকে সবাই ভাবতো বৃষ্টির তোড়ে আশেপাশের জলাশয় থেকে বুঝি মাছেরা রাস্তায় চলে আসে। কিন্তু একসময় লোকেরা সরাসরি দেখতে পায় আকাশ থেকে বৃষ্টির ফোঁটার মতন শত শত মাছ পড়ছে। প্রশ্ন হলো এই মাছ বৃষ্টি কেন হয়।

স্থানীয়রা এই ঘটনাকে বলেন জুভিয়া দে পেতেস স্প্যানিশ এই শব্দটির অর্থ হলো মাছের বৃষ্টি। মাছবৃষ্টি বলতে একটি-দুটি নয় লাখ লাখ মাছ আকাশ থেকে ঝরে পরে। ১৯৭০ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক বিজ্ঞানীদের একটি দল ইউরোর মাছ বৃষ্টির এই ঘটনা একেবারে চাক্ষুষ দেখে।

এসময় আবারও তারা একই ব্যাখ্যা নিয়ে আসে যে মাছগুলো আর যেখানকার হোক না কেন আকাশ থেকে পড়ছে না। মাটিতে পড়ে থাকা মাছ গুলোর উপর গবেষণা চালিয়ে তারা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার লক্ষ্য করেন। মাছগুলো দৃষ্টিশক্তিহীন তার মানে এরা অবশ্যই সমুদ্রের গভীরের মাছ। এত গভীরে যেখানে একদমই আলো পৌঁছায় না। 

এরপর এই ঘটনার ব্যাখ্যা দেওয়া টা বেশ সহজ হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা বলছেন মাছবৃষ্টি অস্বাভাবিক হলেও প্রকৃতিতে এটা ঘটে থাকে। যখন কোন বড় নদী ও সাগরের উপর টর্নেডো ঘূর্নিঝড় সৃষ্টি হয় তখন ঘূর্ণায়মান বাতাস অগভীর নদী সাগরের উপর পানির সংস্পর্শে আসলে সাগর বা নদী হালকা ওজনের মাছ গুলো পানির সঙ্গে ওই ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে মিশে গিয়ে উপরে উঠে যায়। 

উক্ত অঞ্চল থেকে আপাতদৃষ্টিতে ঘূর্ণিঝড় থেমে গেছে বলে মনে হলেও তা মূলত অনেক উপরে ঘুরতেই থাকে। তাছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের ঘূর্ণিবায়ু পানির সঙ্গে মাছ টেনে নিয়ে তা মেঘ হিসেবে জমা রাখে। আশ্চর্যের বিষয় হলো মেঘমালা এই মাছগুলো বহন করে হলে উক্ত টর্নেডো ঘূর্নিঝড় মাছগুলো সঙ্গে নিয়ে ঘুরে ঘুরে সাগর বা নদী নিকটবর্তী অঞ্চলে আসে। 

মূলত ঘূর্ণিঝড় এর ঘূর্ণন বন্ধ হয়ে যায় ফলে মেঘ থেকে বৃষ্টি হয় তখন মাছগুলো পানির সঙ্গে মাটিতে পড়তে থাকে। এভাবেই ঘটে যায় মাছবৃষ্টি। আপনি জেনে হয়ত অবাক হয়েছেন মাছ বৃষ্টি কেন হয়। সত্যি অবাক করার মতই বিষয়।

বর্ষাকালে বৃষ্টি কেন হয়

বর্ষাকালে বৃষ্টি হবে এটাই তো স্বাভাবিক,বর্ষা তো বৃষ্টিরই ঋতু। কিন্তু বর্ষাকালে বৃষ্টি কেন হয় আমরা তা জানার চেষ্টা করেছি কখনো?

আরও পড়ুনঃ টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় বাংলাদেশে

বর্ষাকালে সূর্য বাংলাদেশের ওপর খাড়াভাবে কিরণ দেয়। বাংলাদেশে এ সময় বেশ গরম থাকে বলে বায়ুচাপ কম থাকে। এদেশের দক্ষিণের বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে তখন সূর্য তুলনামূলকভাবে তীর্যকভাবে কিরণ দেয়। তাই সে অঞ্চল কম গরম হয় বলে বায়ুচাপ বেশি থাকে। ফলে তখন বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশের দিকে প্রবাহিত হয়। দক্ষিণ দিক থেকে প্রবাহিত এ বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প নিয়ে আসে। এ জলীয়বাষ্প ঠান্ডা হয়ে বৃষ্টি হয়। একারণেই বর্ষাকালে বাংলাদেশে প্রচুর বৃষ্টি হয়।

সত্যি আমাদের চারিদিকে কতকিছুই ঘটে চলেছে তা আমরা একটু লক্ষ করলেই হয়ত বুঝতে পারি। মজার বিষয় হলো কোন কিছুই কারণ ছাড়া হয়না। বর্ষাকালে বৃষ্টি কেন হয় এর কারণ ও আছে। আশা করি আপনার জেনে ভালো লেগেছে।

আমাদের শেষ কথাঃ বৃষ্টি কেন হয় | এসিড বৃষ্টি কেন হয়

বৃষ্টি নিঃসন্দেহে দারুণ উপভোগ্য এবং প্রকৃতির জন্য আশীর্বাদও বটে, তবে সেটি অবশ্যই স্বাভাবিক বৃষ্টি। এসিড কিংব শিলা বৃষ্টি পরিবেশের জন্য অনেকাংশে ক্ষতিকারক। এসিড বৃষ্টি তৈরীতে আমরা যে অবদান রাখছি সেটি অস্বীকারের উপায় নেই।

পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এই বিষয় গুলো খেয়াল রাখা জরুরী। তা না হলে যে বৃষ্টি উষ্ণতা কমিতে শীতল এবং সতেজ একটা আমেজ এনে দেয় সেটিই এক সময় ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

fasttechit নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url