কবরের আজাব থেকে মুক্তির উপায়

কবরের আজাবের কথা মনে হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিভীষিকাময় শাস্তির কথা। ইসলাম ধর্মে অনুসারীদের কোরআন ও হাদিসের আলোকে জানা জায় অসৎ কর্মের জন্য কবরে আজাব হবে। আমাদের আজকের পোস্টের শিরোনাম গুলো কবরের আজাব থেকে মুক্তির উপায়।

কি কি করলে কবরে আজাব হবে এবং সে আজাব থেকে মুক্তির উপায় কি সেই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানতে আমাদের পোস্টটি পড়ুন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ কবরের আজাব থেকে মুক্তির উপায়

কবরের আজাব কেন হবে

কবরের আজাব কেন হবে এর উত্তরে আমরা জানতে পারি মহান আল্লাহ তাআলার আদেশ-নিষেধ না মানা সেই সাথে আল্লাহর ইবাদত না করা এবং আল্লাহ এবং রাসুল সাঃ এর দেখানো পথে না চলার কারণে কবরের আজাব হবে।

আরও পড়ুনঃ ইউটিউব থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করা যায়

কাজেই কবরের আযাব থেকে রক্ষা পেতে হলে আমাদের অবশ্যই আল্লাহর ইবাদত করতে হবে অন্যায় অপকর্ম থেকে দূরে থাকতে হবে।

যেসব কারণে কবরে আজাব হবে

কবরের আজাব থেকে মুক্তির উপায় হতে পারে একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। তবে এর আগে আমাদের জানা প্রয়োজন যেসব কারণে কবরে আজাব হবে। কবরের আজাব থেকে মুক্তির উপায় হতে পারে একমাত্র আল্লাহর অনুগত পালন করা সেই সাথে যেসব কারণে কবরে আজাব হবে আল্লাহ সে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন সে বিষয় থেকে নিজেকে হেফাজত করা।

কবরে কি ধরনের আজাব হয় সেই বিষয়ে নবী করীম (সা:) বলেছেন,যদি এই ভয় না থাকতো যে তোমরা মৃতকে দা ফোন করবেনা তাহলে আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করতাম কবরের যে আজাব আমি শুনতে পাই, তা যেন আল্লাহ তোমাদের শুনিয়ে দেন '। ( মুসলিম, হাদিস: ৭৩৯২)

কবরের আজাব থেকে মুক্তি চেয়ে হযরত মুহাম্মদ (সা:) প্রায়ই দোয়া করতেন, ' হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই।' ( বুখারি, হাদিস: ২৮২২)

এ থেকে বোঝা যায় কবরে আজাব নিশিত যদি না আমরা আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে পারি এবং সঠিক পথে চলতে পারি।

রাসূল (সা:) নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কবরের আজাব ভোগ করবে বলেছে। তাদের মধ্যে অন্যতম হল

১। কুৎসাকারী ও পরনিন্দুক

২। যে ব্যক্তি পেশাব করা থেকে উত্তমরূপে পবিত্র হয় না

৩। মিথ্যুক

৪। জিনাকারী

৫। সুদখোর

এ ছাড়া আরও অনেকের কথাই নবীজি উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ আমাদের কবরের আজাব থেকে হেফাজত করুক এবং কবরের আজাব থেকে মুক্তির আমল করার তৌফিক দান করুক।

কবরের আজাব থেকে মুক্তির উপায়

কবরের আজাব থেকে মুক্তির উপায় হতে পারে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা এবং আল্লাহ পবিত্র কোরআনে যে সকল কাজ থেকে বিরত থাকার কথা বলেছেন সেই সকল কাছ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। যেভাবে ইবাদত করতে বলেছেন সেই ভাবে ইবাদত করা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে উৎসর্গ করা।

আরও পড়ুনঃ ত্বকের যত্নে যেসব খাবার খাবেন

এছাড়াও জীবন কালে সকল ধরনের পাপাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করা। বিশেষ করে পরনিন্দা বা গীবত করা, মিথ্যা কথা বলা, জিনার কাজে লিপ্ত থাকা, সুদ খাওয়া, পেশাব করার পর উত্তম ভাবে পবিত্র না হওয়া ইত্যাদি বিষয়গুলো কবরের আজাব এর জন্য অন্যতম কারণ।

এসকল কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারলে কবরের আজাব থেকে মুক্তির উপায় পাওয়া যেতে পারে। কবরের আজাব থেকে যার মুক্তি পাবে না তাদের পরবর্তী ধাপগুলো আরো বেশি জটিল বা কথিন হবে।

তবে কবরের আজাব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নবীজি (সা:) বলেন যে ব্যক্তি প্রতিদিন এশার নামাজ পড় ঘুমানোর আগে মুলক সূরা পড়বে তার কবরের আজাব মাফ করে দেয়া হবে। ( তিরমিজি, ২৮৯০, মুসতাদরাকে হাকেম)

কবরের আজাব থেকে মুক্তির দোয়া

কবরের আজাব থেকে মুক্তির দোয়া করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা আমরা যত পাপ ই করি যে সকল পাপ থেকে মুক্তির জন্য একমাত্র আল্লাহর কাছে যদি দোয়া করি এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি তাহলে আল্লাহ তা ক্ষমা করে দেন।

এজন্য কবরের আজাব থেকে মুক্তির দোয়া জেনে প্রতিনিয়ত সেই দোয়া করা আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দোয়া কবরের আজাব থেকে মুক্তির উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি।

হযরত আবু হুরায়রা রা: একটি হাদীসে বর্ণনা করে বলেন, ' নবীজি সা: বলেছেন তোমরা যখন নামাযের পর তাশাহহুদ পড়ো তখন তোমরা চারটি বিষয় থেকে রক্ষার জন্য প্রার্থনা করো। এই বলে যাওয়া করো আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবি জাহান্নাম, ওয়া মিন আজাবিল কবর, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহয়িয়া ওয়াল মামাতি ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জাল।'

এই দোয়ার অর্থ কি হে আল্লাহ আমি জাহান্নামের আজাব থেকে আশ্রয় চাই। কবরের আজাব থেকে আশ্রয় চাই। জীবন-মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। এবং মাসিহ দাজ্জালের ফিতনার ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই। ( মুসলিম )

কাজেই কবরের আজাব থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে এই দোয়াটি আমরা প্রতিদিন নামাজের সময় করতে পারি। এবং সকল পাপাচার থেকে নিজেদের রক্ষা করে চলার চেষ্টা করতে হবে।

কবরের আজাব থেকে বাঁচার আমল

কবরের আজাব থেকে বাচার আমল হিসেবে নবীজি সা: বলেছেন প্রতিদিন এশার নামাজ পড়ে এবং ঘুমানোর পূর্বে সুরা মুলক পাঠ করলে সেই ব্যক্তির কখনো কবর আযাব হবে না। কাজেই কবরের আজাব থেকে বাচার আমল হিসেবে আপনি সূরা মূলক প্রতিদিন পাঠ করতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ গরুর মাংস খেলে কি হয় - গরুর মাংস কতটুকু খাবেন

কবরের আজাব থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে নিজের মধ্যে কিছু বৈশিষ্ট্য এবং এই আমল গুলো প্রতিষ্ঠা করতে পারে। বিশেষ করে সকল ধরনের পাপাচার থেকে নিজেকে দূরে রাখা। যে সকল কাজ করলে কবরে আজাব হবে সেসকল কাছ থেকে নিজেকে বিরত রাখা। 

এই পাপাচার থেকে নিজেকে দূরে রাখা বা বিরত রাখা এক ধরনের আমল। কাজেই কবরের আজাব থেকে মুক্তির উপায় হিসেবে উল্লেখিত আমলগুলো করতে পারেন।


আমাদের শেষ কথাঃ কবরের আজাব থেকে মুক্তির উপায়

কবরের আজাব থেকে মুক্তির উপায় এবং কবরের আজাব থেকে মুক্তির আমল এই সকল বিষয় নিয়ে যদি আপনি জানতে আগ্রহী হন। এবং আমাদের সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়ে থাকেন তাহলে অনেক তথ্যই আপনি জেনেছেন। 

উল্লেখিত বিষয়গুলো নিজের জীবনে প্রতিফলিত করে কবরের আজাব থেকে মুক্তির উপায় জেনে আল্লাহ আমাদের আমল করার তৌফিক দান করুন এই প্রত্যাশা রাখছি।

কবরের সেই দুর্দিনের ভয়াবহ কষ্ট থেকে আপনি আমি আমরা সবাই মুক্তি পাই আল্লাহ আমাদের মুক্তি দিন এই প্রার্থনাই রইল। 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

fasttechit নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url